১৩ চীনা নাগরিকসহ করোনায় আক্রান্ত ২৫ জন, ঝুঁকিতে বাঁশখালী

মুহাম্মদ দিদার হোসাইন, বাঁশখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গন্ডামারা এলাকায় এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত প্রকল্পে দ্বায়িত্বরত ১৩ চীনা নাগরিকসহ ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি করোনা”ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকা জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের গত ৮ সেপ্টেম্বর করোনা পরীক্ষা করানোর পর আজ ১৩ সেপ্টেম্বর(রবিবার)স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আসা প্রতিবেদনে তারা সবাই করোনায় পজিটিভ হন।

বাঁশখালী উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার প্রকল্পে কর্মরত করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসা রোগীদের ব্যাপারে বলেন, উপজেলার গন্ডামারা এলাকায়  নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুত প্রকল্পে কর্মরত ১৩ চীনা নাগরিকসহ ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসা রোগীরা কোয়ারান্টাইনে রয়েছে ওই এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে এবং করোনায় আক্রান্ত দেশি-বিদেশি ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও উন্নত শিক্ষার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ হয়েছে যাতে   যাতে করোনা”ভাইরাসের কোন ধরনের ওই এলাকায়  সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়,আক্রান্তদের ব্যাপারে ওই এলাকায় প্রশাসনের সতর্ক নজর রাখা হয়েছে যাতে করে অন্য কেউ সংক্রামিত না হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী করোনার প্রকোপ ছড়ানোর পর কর্তব্যরত চীনা অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দেশে চলে গিয়েছিলেন। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তারা দেশ থেকে ফিরে পুনরায় প্রকল্পের কাজে যোগদান করে। এছাড়া তাদের সাথে অসংখ্য দেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীও রয়েছেন। সর্বমোট করোনা আক্রান্ত ২৫ জনের মধ্যে ১৩ জন চীনা নাগরিক এবং বাকী ১২ জন দেশি নাগরিক।

তবে এব্যাপারে কয়লা বিদ্যুত প্রকল্পে দ্বায়িত্বরত  গণ্ডামারা ফাঁড়ি পুলিশ এস আই আরিফ বলেন,  করোনা”ভাইরাসে আক্রান্তদের ব্যাপারে খবর শুনেছি, তবে আক্রান্তরা প্রজেক্ট এলাকা ভিতরে নেই, হয়তো তাদেরকে কোয়ারান্টাইনে বা হাসপাতালে রাখা হয়েছে তাই এব্যাপারে নিশ্চিত কোন তথ্য আমার কাছে নেই।

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুর রহমান মজুমদার বলেন,করোনা আক্রান্ত ২৫ জন দেশি-বিদেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মেডিকেল টিমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকায় লকডাউনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সবাইকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কারো স্বাস্থ্যগত চরম ঝুঁকি দেখা দিলে হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে এনে ভর্তি করা হবে বলেও জানান তিনি।

এব্যাপারে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রেজাউল করিম মজুমদার বলেন,প্রকল্প এলাকায় পুলিশ করোনা আক্রান্তদের নিরাপত্তা সুরক্ষায় সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত আছে।