চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা এখন আরও সুন্দর দৃষ্টিনন্দন

আব্দুল করিম, চট্টগ্রামঃ
পশু-পাখির কলকাকলিতে মুখর, বাড়ছে দর্শনার্থী
নানা পশু, পাখির কলকাকলিতে মুখর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। বাঘ, সিংহ, জেব্রা, সাপ, হরিণ, বানর, ভাল্লুক, উল্লুক, কুমির, শিয়াল, খরগোশ, ময়ূর, গয়াল, ঘোড়া ও পাখিসহ প্রায় ৬৩ প্রজাতির ৬২০টি দেশি-বিদেশি পশু-পাখি আছে। আরো আছে বিরল প্রজাতির সাদা ডোরাকাটা বাঘ। আছে প্রাকৃতিক পক্ষীশালা। আবার নতুন করে চিড়িয়াখানার পাহাড়ের উপর ও নিচে তিন একর জায়গায় তৈরি করা হচ্ছে জিরাপ, জেব্রা ও ক্যাঙ্গারুর খাঁচা। পাহাড়ের উপরে নির্মিত হচ্ছে আরেকটি প্রাকৃতিক পক্ষীশালা।

চিড়িয়াখানার সেই শূন্য খাঁচা এখন পশু-পাখিতে পরিপূর্ণ। পাঁচ বছর আগেও চট্টগ্রামেরচিড়িয়াখানা অনেকটা নামেমাত্র ছিল। যেখানে ছিল না পর্যাপ্ত পশু-পাখি। খালি ছিল প্রায় খাঁচা। ছিল না সৌন্দর্যের ছোঁয়া। তাই দর্শনার্থী সংখ্যাও ছিল কম। কিন্তু ২০১৪ সালের আগের চিড়িয়াখানা আর বর্তমানের চিড়িয়াখানায় আকাশ পাতাল পার্থক্য। প্রতিটি খাঁচা দখল করে আছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি পশু-পাখি। খালি নেই একটি খাঁচাও। আবার শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য করা হয়েছে দোলনাসহ নানারকম খেলার স্থাপনা। আছে বড়দের জন্য বসার সুব্যবস্থা। উজ্জ্বল রঙ্গে রাঙ্গিয়ে তোলা হয়েছে সম্পূর্ণ চিড়িয়াখানার দেয়াল। সেই দেয়ালে আঁকা হয়েছে নানারকম পশু-পাখির ছবি। যা নজর কাড়ছে দর্শকদের। সব মিলিয়ে এমন সুন্দর পরিবেশে ছবি তুলতে ব্যস্ত দেখা যায় অনেক দর্শনার্থীকেই। এখন শুধু ঈদ, পূজা-পার্বণ কিংবা সাপ্তাহিক ছুটিতেই নয়, দর্শকদের ভিড় থাকে প্রতিদিনই। চিড়িয়াখানায় ঢুকতেই নজর কাড়ছে লম্বা গলার দুটি জিরাপ। এরপরেই সেই প্রাকৃতিক পক্ষীশালাটি।

দেড় হাজার বর্গফুটের ছোট্ট পক্ষীশালায় পাখিদের কিচিরমিচির ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠে বিকেলের পরিবেশ। পক্ষীশালায় আছে নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি। বিদেশি পাখিগুলোর মধ্যে আছে লাফিং ডোব, ফিজন্টা, রিং নেক প্যারট, ককটিয়েল, লাভবার্ড ও ম্যাকাও। দেশি পাখিগুলোর মধ্যে কবুতন, টিয়া, ময়না, বাবুই, কাকাতুয়া ও চড়–ই। পক্ষীশালায় সেই পাখিদের খাবার ও থাকার জন্য করা হয়েছে উপযুক্ত ব্যবস্থা। এরপাশেই সেই আলোচিত সাদা ডোরাকাটা বাঘের খাঁচা। সেই বিরল প্রজাতির ডোরাকাটা সাদা বাঘের জন্ম হয়েছে বছর খানেক হচ্ছে। বেশ চঞ্চল আর নাদুসনুদুস বাঘ ছানাটি দেখা যায়, সেটি খেলা করছে তারই সহোদরের সাথে। পাশের খাঁচায় একা আছে মা বাঘটি। তারই পাশে অজগরের খাঁচা। মায়া হরিণ, কুমির ও ভিতরের দিকে ময়ূরের খাঁচা। হেলেদুুলে খেলা করেছে ময়ূর। তার সাথে ছবি তোলার চেষ্টা করছে কয়েকজন মহিলা। পাশের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতেই চোখ জুড়ে যায় উটপাখি আর ইমুপাখি দেখে। এ যেন চিড়িয়াখানার সৌন্দর্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এক কথায় পশু-পাখিতে পরিপূর্ণ চট্টগ্রামের বর্তমান চিড়িয়াখানা।

মো. সায়েম কাউছার ঘুরতে এসেছেন পরিবার নিয়ে। তিনি বলেন, আগের চেয়ে খুব সুন্দর হয়েছে চিড়িয়াখানা। আগে তো খাঁচাগুলো ফাঁকা ছিল। বাচ্চাদের নিয়ে আসলে তেমন কিছুই দেখা যেত না। এখন বাচ্চারা এখানে আসতে চায়। এটি এখন শিশুদের ঘুরার উপযুক্ত হয়ে উঠেছে। শুধু তিনিই নয় পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন অনেকেই। চিড়িয়াখানার সৌন্দর্যে মুগ্ধ সব দর্শকই।চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ও ডেপুটি কিউরেটরের দায়িত্বে থাকা ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, সম্পূর্ণ নতুন রূপে সাজানো হয়েছে চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানা। পশু-পাখি থেকে শুরু করে সব কিছুই নতুন করে করা হয়েছে। চিড়িয়াখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নামাজের সুব্যবস্থা, নিরাপদ পানি ও পায়খানার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। আগের মত ছেলেমেয়েদের উল্টোপাল্টা চলাফেরাসহ বখাটে ছেলেদের আড্ডা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আগের পাঁচ একর ছাড়া বর্তমানে আরো তিন একর জায়গায় জিরাপ, জেব্রা ও ক্যাঙ্গারুর খাঁচার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাহাড়ের উপরে আরো একটি পক্ষীশালা নির্মাণ করা হচ্ছে। যেখানে কোনো খাঁচা থাকবে না। পক্ষীশালাটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। এখানে পাখিরা নিজের ইচ্ছেমত যাতায়াত করতে পারবে। সেখানে অনেকগুলো ফলের গাছ লাগিয়েছি। যাতে পাখিরা এসে সেই ফল খেতে পারে। আশা করছি আগামী শীতে পাখিরা আসবে। এতে এখানের পরিবেশ আরো সুন্দর হয়ে উঠবে।