‘দুঃখ নামক কালবৈশাখী’- মুহাম্মদ মোরশেদ

দুঃখ নামক কালবৈশাখী
মুহাম্মদ মোরশেদ

 

“দুঃখ আসবে জীবনে
তাই বলে এটাই নয়তো শেষ
দুঃখের পড়ে আসবে সুখ
শুরু হবে খুশির রেশ”

জীবনে দুঃখ আসবেই,এটা এক কঠিন বাস্তবতা, জীবনের ভয়ংকর সত্যতা। জীবনের দুঃখ আসবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ আল্লাহ তায়ালা যাকে বেশি ভালোবাসেন তাকেই বেশি কষ্ট দেন..এই কষ্ট সেই কষ্ট নয়,এই কষ্ট হলো সুখের কষ্ট, কারণ এর মাধ্যমে আমার রব আমাকে পরীক্ষা করছেন যে, আমি তার প্রিয় হবার যোগ্য কিনা, আল কোরআনের একটি আয়াতে বলা হয়েছে———-

নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা এবং কিছু ধনপ্রাণ এবং ফলের (ফসলের) নোকসান দ্বারা পরীক্ষা করব; আর তুমি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও।

(আল বাকারা – ১৫৫)

এই আয়াতের দিকে একটু গভীরভাবে মনোযোগ দিয়ে দেখলে, অন্তরের ভিতর থেকে উপলব্ধি করলে, বুঝতে পারবেন যে,তিনি (আল্লাহ তায়ালা) বলেছেন যে নিশ্চই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব,এখন পরীক্ষা মানে তো নিশ্চই কষ্টের কিছু হবে, নয়তো সুখের মাধ্যমে হবে…

আমরা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের যখন পরীক্ষা দিই, তখন ভালো ফলাফল করলে আমরা এর প্রতিদানে ভালো কিছু পাই, ভালো জায়গায় চান্স পাওয়ার সুযোগ পাই…ঠিক তেমন’ই যখন মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের’কে পরীক্ষা করেন তখন আমরা যদি ধৈয্য ধারণ করি, তাঁর শোকরিয়া আদায় করি, তাহলে আমরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারব।

অনেক সময় দেখা যায় স্কুল-কলেজের পরীক্ষায় কেউ ভালো ফলাফল করলে তাকে সব টিচাররা দেখতে পারে, ভালোবাসে,বেশি কেয়ার করে। ঠিক তেমন’ই যদি আপনি আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন, তাহলে আপনিও আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করবেন। একটি বার ভাবুন দুনিয়ার কারো কাছে প্রিয় হওয়া উত্তম নাকি আল্লাহর কাছে প্রিয় হওয়া উত্তম।

উক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন যে
যারা ধৈয্য ধরবে তাদের জন্য সুসংবাদ দেওয়ার জন্য। আর আল্লাহর সুসংবাদ মানেই তো সবচাইতে উত্তম।

তাই দুঃখ আসলে কখনো ভেঙ্গে পড়া যাবে না, আল্লাহর উপর নারাজ হওয়া যাবে না, বরং ধৈয্য ধরতে হবে, আল্লাহর নিকট বেশি বেশি দোয়া প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহ সবাইক বোঝার তাউফিক দিন, আমিন-আমিন।

লেখক: মুহাম্মদ মোরশেদ
২৫ আগস্ট ২০ বিশ