রামগড়ে ছাত্রী নিপীড়নের অভিযোগে পৌর কাউন্সিলর বাদশা মিয়ার শাস্তি দাবিতে মানববন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামগড়ঃ
খাগড়াছড়ির রামগড়ে পৌরসভার কাউন্সিলর ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসাহী সদস্য বাদশা মিয়ার বিরুদ্ধে ঐ স্কুলের এক ছাত্রীকে মোবাইল ফোনে উত্যক্ত ও নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রবিবার(৮ মার্চ) সচেতন ছাত্র সমাজের ব্যানারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা শহরে মানববন্ধন ও সংবাদ সন্মেলন করেছে।

অভিযোগে জানা যায়, রামগড় পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসাহী সদস্য বাদশা মিয়া বেশ কিছুদিন ধরে ঐ স্কুলের এক ছাত্রীকে (এসএসসি পরীক্ষার্থী) মোবাইল ফোনে কল দিয়ে উত্যক্ত করতেন। তাকে বিয়ে করতে রাজী করাতে ঐ ছাত্রীকে তিনি নানা প্রলোভন দেখান।

এ অবস্থায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৩-৪দিন আগেই ছাত্রী ঘটনাটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে স্কুল হোস্টেল ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে মোবাইলে ঐ ছাত্রীকে উত্যক্ত করার ফোন ভয়েজ রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবেকসহ সচেতন মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রামগড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) মো: ফয়েজার রহমান বলেন, ঐ ছাত্রীর বাড়ি নোয়াখালীতে। তার এক বড় ভাইয়ের চাকুরির সুবাদে মেয়েটি এ স্কুলে ভর্তি হয়ে স্কুল হোস্টেলে থেকে পড়ালেখা করতো।

সে এ ঘটনা তাদের জানানোর পর বিষয়টি স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে, স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত করার অভিযোগে শাস্তির দাবিতে রবিবার রামগড় হাইপ্লাজা সংলগ্নে খাগড়াছড়ি সড়কের পাশে মানববন্ধন করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা। সচেতন ছাত্র সমাজের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা কাউছার হাবিব শোভন।

পরে একই দাবিতে স্থানীয় শান্তি পরিবহণ অফিসে এক সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সন্মেলনে পৌর কাউন্সিলর বাদশা মিয়াকে স্কুল পরিচালনা কমিটিসহ সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কমিটি থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।

সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাউছার হাবিব শোভন।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার জাহিদ ছোটন, মো: আনোয়ার হোসেন, আরাফাত হোসেন, ইসমাইল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, নীলিমা নাজনীন, আঁখি প্রমুখ