১/১১ এর ১৯শে জানুয়ারি ও একজন কারানির্যাতিত জাবেদুল আযম মাসুদ

সিটি ডেস্কঃ
১/১১ এর সেই ভয়াল দিনগুলোর কথা কার মনে নেই? কি এক ভয়ঙ্কর সময় ছিল ১/১১ এর দিনগুলোর। ১/১১ এর সেই ভয়াল দিনগুলোর একটি দিন ১৯ জানুয়ারী। সেইদিনের এক বীরের কথা আজ তুলে ধরা হলো উনারই ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করা এক লিখনি থেকে। ১/১১ এর সেইদিনের সেই নির্যাতিত ও অত্যাচারিত ব্যক্তিটি হলো তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এর সদস্য “জাবেদুল আযম মাসুদ”।

নিচে একপলকে উনার স্ট্যাটাস থেকে ১/১১ এর সেই ভয়াল দিনের চিত্র তুলে ধরা হল।

আজ ১/১১ তে আমার কারাবরনের দিন,কঠিন দূর্বিসহ একটা দিনঃ
২০০৭ সালের আজকের এ দিনে অর্থাৎ ১৯শে জানুয়ারি সকাল ১০ ঘটিকার সময় সুগন্ধাস্হ একুশে হসপিটালে আমার একজন খুব প্রিয় শিক্ষক ভর্তি হয়ে আমাকে খবর পাঠালেন আমাকে দেখার জন্য, তাই ছুটে গিয়েছিলাম সেখানে। যদিও ৭ দিন পরে যেখানে লুকিয়ে ঘুমিয়েছিলাম সেখান থেকে ছুটে এসেছিলাম প্রিয় শিক্ষককে অন্তিম মূহুর্তে দেখার জন্য। প্রিয় শিক্ষককে দেখে বের হয়ে যাওয়ার সময় এক ছোট ভাইয়ের সাথে দেখা হয় সেখানে। তার বাবাকেও সেখানে ভর্তি করেছিল একুশেতে। কথা বলতে বলতেই দেখি RAB এসে হাজির। আমাকে বললো সাথে যেতে হবে, সাথে পাশে থাকা ‘ম’ অদ্যক্ষরের ছোট ভাইটিকেও টানাটানি শুরু করে দিল। আমি বললাম আমাকে নিতে আসছেন তো চলেন আমি যাচ্ছি। ও গ্রামের ছেলে, ওর বাবাকে নিয়ে আসছে হসপিটালে, অনেকদিন পর দেখা তাই কথা বলছি। ওকে ছেড়ে দিন, সেদিন তাকে ছেড়ে দিল। কিন্তু সে একবারের জন্যও আমার আর কোন খবর নিলো না। আমাকে নিয়ে গেলেন সি আর বি পাহাড়ে। সেখানে এক দফা টর্চারিং করে নিয়ে গেল অস্ত্র উদ্ধারের প্রহসনে। আমি নাকি অনেক বড় মাপের সন্ত্রাসী। সারারাত ঘুরাঘুরি করে নিয়ে গেলেন অফিসে। অনেক কথায় জিজ্ঞেস করলেন ওরা কিন্তু কোন সদুত্তর আমার থেকে না পাওয়ায় ওরা আমাকে গামছা পেছিয়ে নাকে গরম পানি ঢেলে অনেক কথায় জিজ্ঞেস করলেন। তাতেও তাদের মন ভরেনি। শেষমেষ শূন্যে ঝু্ঁলিয়ে রাখলেন অনেক্ষন। পরে নামিয়ে আনলেন সিও “লেঃকঃ হাসিনুর রহমান”। তিনি আমাকে অনেক প্রশ্নের জবাব চাইলেন সে জবাবের একটি হলো নগর ছাত্রলীগের সভাপতির সাথে আমার দ্বন্দ্ব কেন? আমি বললাম দ্বন্দ্ব টা সাংঘর্ষিক না, আদর্শিক, সাংগঠনিক প্রতিযোগীতা। তিনি আমাকে একটা কালো ইলেক্ট্রিক শর্ট লাইট দিয়ে শর্ট দিয়ে বললেন আমি নাকি মিথ্যা বলছি। দেখি একটা ফোন আসছে তখন আমার খুব চিরচেনা একটা আওয়াজ শুনতে পেলাম। রাতের নিঃস্তব্ধতার আওয়াজ ফোন গড়িয়ে বাইরে খুব ভালভাবেই শুনা যাচ্ছিল। ওনি আমাকে না ছাড়তে বলে সিওকে বললেন আমাকে ছেড়ে দিলে অনেক ক্ষতি হবে। পরক্ষনে আরও একটি ফোন আসলো আমি সেই ফোনের সকল শব্দও শুনতে পেলাম। ওনি বললেন ওপাশ থেকে আমি “মেজর রবি” বলছি, বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার প্রোটোকল অফিসার সূধা সদন থেকে বলছি। “জাবেদুল আযম মাসুদ” ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম মহানগরের সহ-সভাপতি, বিনা মামলায় তাকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে? আমাকে যাতে ছেড়ে দেন। সিও সাহেব সম্পূর্নভাবে অস্বীকার করে ফোন কেটে দিলেন এবং সাথে সাথে শর্টের লাঠিঠা নিয়ে আমার দিকে তেড়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন সূধা সদনের সাথে আমার কিসের এতো সম্পর্ক। আমি বললাম রাজনীতির। সাথে সাথে পিটুনি শুরু। আবার নাকে গরম পানি দিলেন কোন মতে বেঁচে গেলাম। তারপর ১ ঘন্টা পরে আরও একটি ফোন তাতে কথা বললেন “ড. আওলাদ হোসেন”। প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন পিএস। তিনি বললেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতিকে আপনারা গ্রেফতার করেছেন। ওর কোন মামলা নাই। ওকে ছেড়ে দেওয়া হোক। খুব দ্বারাজ কন্ঠে অনুরোধ করেছিলেন তিনি, যদিও পরে জানতে পারলাম তারপরে ৬/৭ ঘন্টা পরে আওলাদ ভাই নিজেও গ্রেফতার হয়ে গিয়েছিলেন। বের হওয়ার পরে জানতে পারলাম এ ফোন গুলো করিয়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান উপ-প্রচার সম্পাদক জননেতা “আমিনুল ইসলাম আমিন” ভাই। আমি কৃতজ্ঞ #মেজর রবি ভাই, ড. আওলাদ ভাই, আমিন ভাইয়ের কাছে। আপনাদের বদন্যতায় আমি ফিরে পেলাম আর একটি নতুন জীবন। অনেক টর্চারিং এর পর RAB আমাকে ছেড়ে দেওয়ার মুহুর্তে একটা মিথ্যা হত্যা মামলায় ওয়ারেন্ট দেখিয়ে আমাকে নিয়ে গেলেন বর্তমান এসি ডিবি, তৎকালীন সিআইডি ইনস্পেক্টর “কাজল বড়ুয়া। ১৭ দিন রিমান্ড শেষে, শেষ মেষ কারাগারে প্রেরন”। আজ সেই ভয়াল দিনটির কথা মনে পড়তেই কেমন যেন ভেতর থেকে একটা মোচড় দিয়ে উঠলো। কি অন্যায় করেছিলাম। পিতা মুজিবের কথা,শেখ হাছিনার কথা, ছাত্রলীগের কথা বলাটায় কি আমার অপরাধ। পরক্ষনে ভাবলাম।কষ্ট হয়তো পেয়েছি অনেক তাতেও মনে সন্তুষ্টি আছে প্রচুর। কারন আমার মত একজন কর্মীর জন্য সূধা সদন, নেত্রীর পিএস, কেন্দ্রীয় নেতা আমিন ভাই আমার জন্য তদবির করেছেন। তাতেই আমার রাজনীতির প্রতি চরম আস্হা বেড়ে যায়। কয়জনই আছেন এমন দূঃসময়ে এমন জায়গা থেকে এমন সহযোগীতা পেয়েছেন। ৪ মাস ৩ দিন জেলের অন্ধপ্রকোষ্ট থেকে বের হয়ে এসে যখন সানমার ওশান সিটিতে মোবাইল ব্যবসা শুরু করি সেখানে আবারও শুরু হয় আমার উপর বিভিন্ন রকমের অত্যাচার নির্যাতন, হয়রানী। তখন আশ্রয় নিলাম প্রিয় “অশোক চৌধুরী” দাদা আর “মানিক মোঃ বাবলু” ভাইয়ের। পরে ওনারা দুইজন আমাকে নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে আমাকে একটা সুস্হ জীবন যাপনের পথ তৈরী করে দিলেন। কৃতজ্ঞ আমি প্রিয় ভাইগুলোর কাছে যাদের পরম আন্তরিকতায় আমি আমার স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেলাম।যারা আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছেন টাকা দিয়ে,পত্রিকায় নিউজ করে,তাদের কাছেও কৃতজ্ঞ। কেননা তাদের এমন অসৎ কর্মকান্ডের কারনেই আমি আমার অবস্হান কে, মানুষের হ্রদয় নিংড়ানো আন্তরিকতা কে বুঝতে পেরেছি।সেই ১/১১ কে আমি কখনো ভুলতে পারবো না, পারিনা। অমাবশ্যার রজনীতে এখনো ১/১১ এর নির্যাতনের ব্যাথা আমাকে ঘুমরে ঘুমরে কাঁদায়। নেতা ছিলনা তখন নেতৃত্ব দেওয়ার, মিছিলের কর্মী ছিলোনা শ্লোগান দেওয়ার। ওই সময়ে তিলে তিলে লুকিয়ে লুকিয়ে কর্মীদের রাজপথে টেনে এনেছিলাম আমরা গুটিকয়েক সাবেক ছাত্রনেতা।আজ বিস্তির্ন মাঠ রাজনীতির বিরান ভুমি। এখানে এখন ছাত্রলীগ যুবলীগ আওয়ামী লীগ এ ভরা। রাজনীতির মাঠের সেদিনের সাবেকরা আজ নিঃগৃহীত, লাঞ্চিত, অপমানিত। কে কার খবর রাখে এখন।চারিদিকে হতাশার জোয়ার। তারপরও খুশী যখন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে পথ চলতে পারি, ঘুমুতে পারি। যখন দেখি প্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রশংসা আজ বিশ্ব জুড়ে।

জয় হোক প্রিয়নেত্রী শেখ হাসিনার,
জয় হোক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here