মানবতার টানে প্রান্তিক জনপদে যার ছুটে চলা তিনি লায়ন মোঃ জসীমউদ্দীন!

ফারহান উদ্দীন (সোহাগ), কর্ণফুলী প্রতিনিধি,
যেখানে অসহায় মানুষের আর্তনাদ সেখানেই নিজের সর্বোচ্ছটুকু নিয়ে হাজির এক অনন্য মানবদরদী মানুষ শিকলবাহার কৃতী সন্তান লায়ন মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

মানবতার টানে লায়ন মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন এবার চরলক্ষ্যার একবারে শেষ প্রান্তে ৯নং ওয়ার্ড (নোয়া মিয়া বাপের বাড়ী)। কিছুদিন পূর্বে ফ্রেন্ডস অব হিউম্যান সোসাইটির একটি প্রোগ্রাম উদ্ভোধন করতে গিয়ে এক অসহায় মহিলার খবর পান। যিনি টাকার অভাবে সুচিকিৎসা হতে বঞ্চিত, জসীমউদ্দীন তখন কথা দিয়ে আসেন কিছুদিনের মধ্যে উনার বাড়িতে আসবেন।

তিনি ঠিকি তার কথা রেখেছেন, কিছুদিনের মধ্যে উনার বাড়িতে আসলেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন। তখন অসুস্থ দিলোয়ারা বেগম’র পক্ষে জসীমউদ্দীনের উপহার গ্রহন করেন তার স্বামী মোঃ আব্দুল মাবুদ। এসময় সাথে উপস্থিত ছিলেন আলোকিত শিকলবাহা’র এডমিন প্যানেলের সদস্য ও কালের কণ্ঠ শুভসংঘ কর্ণফুলী শাখার সাধারণ সম্পাদক- ফারহান উদ্দীন (সোহাগ) এবং ফ্রেন্ডস অব হিউম্যান সোসাইটির সভাপতি জিয়াউর রহমান।

শুধুমাত্র চরলক্ষ্যা কিংবা কর্ণফুলী উপজেলা নয়, যিনি সুযোগ পেলে নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্ছটুকু নিয়ে মানবতার টানে ঝাঁপিয়ে পড়েন দেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো ধর্মের মানুষের জন্য তিনি হলেন লায়ন মোঃ জসীমউদ্দীন। একবার তিনি বন্ধুবান্ধবসহ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ঢাকায় যান। তখন এক অসহায় মানুষের খোঁজ পান, যিনি চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তখন জসীমউদ্দীন তার সঙ্গে পর্যাপ্ত টাকা না থাকার কারনে তার শখের দামী মোবাইলটি অর্ধেক মূল্যে বিক্রি করে দেন এবং তা অসহায় মানুষটির চিকিৎসার জন্য ব্যয় করেন।

আমরা তাকে প্রশ্ন করি- আপনি কেন এসব করেন এবং এসব করে আপনি কি পান? এবং আপনার এসব কাজ করার পিছনে উদ্দেশ্যইবা কি?

উত্তরে তিনি বলেন- “আমি এসব করি শুধুমাত্র আত্মতৃপ্তির জন্য। আমি এসব কাজ করে যে মানসিক প্রশান্তি পাই তা পৃথিবীর অন্য কোথাও পাই না। আমার এসব কাজ করার পিছনে উদ্দেশ্য কেবল একটাই আর তা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তিনি আরো বলেন, আমি পৃথিবীতে একটি জিনিশকে খুব বেশি ভয় পাই তা হলো মানুষের অভিশাপ এবং আর দুটি জিনিশের খুব বেশি লোভ করি তা হলো মানুষের দোয়া এবং ভালবাসা।”

তার এরকম হাজারো মানবতার গল্প এখনো আমাদের অজান্তেই রয়ে গিয়েছে শুধুমাত্র শো-আপ এর অভাবে।
কিন্তু এবার আমাদের অনুসন্ধানী চোখ-কে ফাঁকি দিতে পারেনি জসীমউদ্দীন’র এসব মানবিক কাজ। আমরা ঠিকি তাকে খুঁজে বের করেছি। তিনি ছোটবেলা থেকেই মানবিক কাজে আসক্ত, অসহায় মানুষের পাশে দাড়াঁনোর নেশা তার কাছে চিরকালের। সুযোগ পেলেই আড়ালে আবডালে, তিনি ছুটে যান অসহায় মানুষের ধারে ধারে।

আর এরকম হাজারো মানবিক গল্প জুড়েই যার নাম তিনি লায়ন মোঃ জসীমউদ্দীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here