বালু মহালের অভিযানে যাওয়া রাউজানের এসিল্যান্ডকে আক্রমনের চেষ্টা

রাউজান ডেক্স নিউজ, বিশেষ প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাউজানের সর্তাখাল থেকে অবৈধ ভাবে বালু ঊঠানোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমা বালু খেকোদের আক্রমনের মুখে পড়েছেন। তবে সহকারি কমিশনার ভূমি আক্রমনকারীদের হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে। গতকাল ২২ ফেব্রয়ারি সোমবার এই ঘটনা ঘটে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হলদিয়া গ্রামে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন সর্তাখাল রাউজান এবং ফটিকছড়ির মধ্যবর্তী সীমানায় অবস্থিত। উক্ত খালের মধ্য থেকে অব্যাহত ভাবে বালু উঠানোর কারণে খালের পাড়ের রাস্তাঘাট ভাংছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপেক্ষিতে অবৈধ বালু মহালে অভিযানে যায় এসিল্যান্ড অতীশ দর্শী চাকমা। তিনি অবস্থানে অভিযান পরিচালনা করতে যায় সেখান থেকে বালু উঠাচ্ছিল ফটিকছড়ি উপজেলার জনৈক কামালের নেতৃত্বে একটি সিণ্ডিকেট। এসি ল্যাণ্ড বালু খোকোদের ব্যবহার করা স্যালো পাম্প ধ্বংস করতে গেলে ২০/৩০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসিল্যান্ড ও তার সাথে যাওয়া লোকজনকে ধাওয়া করে।

পরে তিনি রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগকে বিষয়টি ফোনে অবহিত করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ র‌্যাব, পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ততক্ষণে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যান। পরে বালু উঠানোর সরঞ্জাম ধ্বংস করে দেয়া হয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম বলেছেন ‘সর্তাখালের রাউজান অংশ থেকে অবৈধভাবে ৪টি পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করছিল রাউজানের পার্শ্ববর্তী ফটিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা কামাল উদ্দিনসহ একাধিক সিন্ডিকেট।

এসিল্যান্ড অভিযানে গেলে ২০/৩০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করলে এসিল্যান্ডের সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যারা গুলি করার হুমকি দিলে তারা খালের পাড়ে উঠে আসে। পরে প্রশাসনের সাথে পুলিশ র‌্যাব দল তাদের ধাওয়া দিলে বালু খোকো সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, এসিল্যান্ড অভিযানে যাওয়ার সময় ৪জন পুলিশ সদস্য নিয়ে যান। পরবর্তীতে ইউএনও সাহেব ফোন করলে আমরা ঘটনাস্থলে আরও ৬ পুলিশ সদস্যকে পাঠাই। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন আমরা র‌্যাব, পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ৪টি পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৪টি মেশিন ধ্বংস করেছি। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। যারা এসিল্যান্ডকে ধাওয়া করে অভিযান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল তারা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here