শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর - ২০২১
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১
আরও

    বাঁশখালীতে ঝড়ের কবলে পড়ে একজন নিহত, নিখোঁজ ৫ জন!

    মুহাম্মদ দিদার হোসাইন,
    বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

    বঙ্গোপসাগরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলাধীন চাম্বল এলাকার ৪টি ফিশিং ট্রলার প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে এক জেলে নিহত হয়েছে আরো ৫ মাঝিমাল্লা এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
    ২৮ জুলাই বুধবার বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে তার কাফন- দাফনের জন্য নগদ ২০০০০/-(বিশ হাজার টাকা)অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।

    বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল এলাকার প্রায় ১৫/২০টি ফিশিং ট্রলার মাছ ধরার জন্য মঙ্গলবার ভোরে চাম্বলের বাংলা বাজার ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে সকাল ৮টার দিকে হেফাজতুল ইসলামে মালিকানাধীন এফবি মুশফিক, মোহাম্মদ ফারুকের মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলার, কেফায়েত উল্লাহ মালিকানাধীন আল্লাহর দান ফিশিং ট্রলার, নন্না মিয়ার মালিকানাধীন আরেকটি ফিশিং ট্রলার, মৌলভী আবুল খায়েরের মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলার এবং আনিস মাঝির একটি ফিশিং ট্রলার এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
    ২৮ জুলাই(বুধবার) ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতি জানায়,এ সময় মাঝি-মাল্লাদের কয়েকজন ফিশিং ট্রলার থেকে পানিতে পড়ে গেলে অন্য ফিশিং ট্রলারের সহযোগিতায় উপকূলে চলে আসতে পারলেও এখনও পর্যন্ত ছয় মাঝিমাল্লা নিখোঁজ রয়েছেন।

    নিখোঁজরা হলেন, পশ্চিম চাম্বল এলাকার মৃত আহমদ উল্লাহর পুত্র আনিস মাঝি(৪৫), মৃত নুর মিয়ার পুত্র মোহাম্মদ আলী(৩৮), শীলকূপ এলাকার মৃত মফিজের পুত্র মিয়া(৩২), আস্করিয়া পাড়ার আমির হোসেনের পুত্র সাজ্জাদ হোসেন, কুতুবদিয়া এলাকার ছৈয়দ আলম(৪৫)।

    তবে শীলকূপ এলাকার হোছাইন আহমদের পুত্র আবদুর সবুরকে নোয়াখালীর হাতিয়ার সাঈদ মাঝির মালিকানাধীন ফিশিং বোট মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে সাগর থেকে উদ্ধার করে।বোট মাঝি সাঈদ দৈনিক সকালের সময়কে জানান, বর্তমানে আবদুর সবুর তার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

    জানা যায়, ঝড়ের কবলে পড়ে ফিশিং ট্রলারগুলো চাম্বল এলাকার।
    চাম্বল বাংলা বাজার ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সহ সম্পাদক মোহাম্মদ আকতার বলেন,ঝড়ের কবলে পড়া ফিশিং ট্রলারগুলোর মধ্যে আনিস মাঝির ফিশিং ট্রলার আর নন্না মিয়ার ছেলে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে। তাছাড়া আরো কয়েকটি ফিশিং ট্রলারও লোকজনের এখনও খোঁজ মিলছে না।

    তিনি নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য কোস্ট গার্ড-এর সহযোগিতা চান।এ ব্যাপারে চাম্বল বাংলা বাজার ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি হেফাজতুল ইসলাম বলেন, আমার মালিকানাধীন ফিশিং ট্রলারসহ নন্না মিয়া, আনিস মাঝি, ফারুক, আবুল খায়ের, কেফায়েত উল্লাহর সহ ৬টি ফিশিং বোট ও ৬ জন মাঝিমাল্লা নিখোঁজ।

    তিনি আরো জানান সাগরে দায়িত্বরত কোস্ট গার্ড-এর সাথে তাদের যোগাযোগ হচ্ছে। কোস্ট গার্ড কোনো খবর পেলে তাদের জানাবেন বলে জানান তিনি।সোমবার রাতে একরাম নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি যে ফিশিং ট্রলারে ছিলেন সেটি এখনও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানান হেফাজতুল ইসলাম।

    এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “বঙ্গোপসাগরে বাঁশখালীর চাম্বল এলাকার ৬ টি ফিশিং ট্রলার ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়েছে। নিহত ইমরানের পরিবারকে তার কাফন-দাফনের জন্য বিশ হাজার টাকা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রদান করেছি,যারা এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ জেলেদের কোস্টগার্ড-এর মাধ্যমে উদ্ধারের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    9,705FansLike
    36FollowersFollow