‘বই বৃক্ষ’ চট্টগ্রাম শাখার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান সম্পন্ন!

নিজস্ব সংবাদদাতা,
উক্ত অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কুরআন তেলওয়াত ও গীতা পাঠ করে ‘। অন্ত্যমিল কবিতা’র সিইও রিসাত তানভীরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত ও নন্দিত শিশু সাহিত্যিক রাশেদ রউফ। সভাপতিত্ব করেছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এবং লেখক রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ওমর গণি এম.ই.এস কলেজের বাংলা বিভাগের প্রফেসর এবং লেখক গোফরান উদ্দিন টিটু। অতিথির আসনে ছিলেন তারুণ্যের প্রতীকের প্রতিষ্ঠাতা জি.এম তাওসিফ, সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ খান সাকিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফবিএস ডিবেটিং ক্লাব এবং মুহসীন হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি রুবায়েত রিভান।

এইছাড়াও বই বৃক্ষ চট্টগ্রাম শাখার সিনিয়র সদস্যদের মধ্যে ছিলো লেখক (হারিয়ে তোমায় পথে) রহস্য শর্মা, লেখক (চলো বৃষ্টিতে ভিজি, নারীনিগ্রহ) মশিউর রহমান আবির, লেখক (কাব্যের নিশাচর) কামরান চৌধুরী, লেখিকা (মায়াবতী) লামিয়া ফেরদৌসী লিমা, পূজা মজুমদার, শ্রীমতী পাপিয়া, নাঈম উদ্দিন, নাজমুল হাসান রিয়াদ। সদস্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলো রাবেয়া রাবু, রামিসা তাহিয়াত, হুমাইরা আশরাফী, সুকরিয়া আসমা, শেখ আব্দুল্লাহ, রাকিন ইমতিয়াজ।

অনুষ্ঠান শেষে তারুণ্যের প্রতীক এর প্রতিষ্ঠাতা জানিয়েছেন বই বৃক্ষের চট্টগ্রাম শাখার সকল প্রকার কাজের দায়িত্ব বহন করবেন। আগামীতে আরও বিশাল পরিসরে বই বৃক্ষের আয়োজন করার জন্য পাশে থেকে সহযোগিতা করে যাবেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলো চট্টগ্রামের অন্যতম প্রকাশন অক্ষরবৃত্ত।

বই বৃক্ষ বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ করে দিবে পাঠক সমাজ তৈরি করতে। বই বৃক্ষের যাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর মাসে। যাত্রা শুরু হয় ঢাকা কলেজের রমজান (প্রতিষ্ঠাতা), খশরু, মেহেদী, বুয়েটের আ: রাফি, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাসিম রেজার হাত ধরে। তারপরই রাজশাহী সদরে সব কলেজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটা আলোচনা সভা হয় এবং সেখানে বই বৃক্ষের কার্যক্রম ফাউন্ডিং মেম্বারদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তারপরই সীমিত পরিসরে বই বৃক্ষের সংগ্রহে থাকা বইগুলো বিনামূল্যে পাঠকদের বাসায় বাসায় ডেলিভারি দেওয়া হয়।

তরুন-তরুনীদের বইয়ের জগৎয়ের মধ্যে আনা এবং তাদের শুদ্ধ বিনোদনের আর সুশীল চিন্তার ব্যবস্থা করা বই বৃক্ষের উদ্দেশ্য।

২০১৯ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে বই বৃক্ষ এখন অব্দি বাংলাদেশের রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া এবং নওগাঁ জেলার মধ্যে তিনটা শাখা সহ মোট ছয়টা শাখা রয়েছে। এই পর্যন্ত প্রায় ৩,৫২৯ জন পাঠককে বই পড়িয়েছে।

বই বৃক্ষের বই পড়ানোর পদ্ধতিঃ
বই বৃক্ষের ফেসবুকে একটি গ্রুপ আছে ” বই বৃক্ষ ” নামে। সেখানে তারা তাদের সংগ্রহে থাকা বইগুলোর ছবি আপলোড দেয়। তারপর পাঠকরা বই পড়তে চেয়ে কমেন্ট করে এবং বই বৃক্ষের প্রতিনিধিরা তাদের সাথে কথা বলে বাসার ঠিকানা নিয়ে পৌছে দিয়ে আসে। আবার পড়া শেষ হলে তাদের বাসা থেকে ফেরত নিয়ে আসে। ১০০ পৃষ্ঠার বইয়ের জন্য পাঠকদের ১০ দিন সময় দেওয়া হয়। পুরো কার্যক্রমটি বিনামূল্যে।

বই বৃক্ষের বই কোথা থেকে আসে?
বর্তমানে বই বৃক্ষের সাথে প্রায় ২১ জন লেখক লেখিকা যুক্ত আছেন যারা প্রতিনিয়ত তাদের লেখা বইগুলো বই বৃক্ষ পরিবারে উপহার পাঠায় এবং বই বৃক্ষ তাদের লেখাগুলো পৌঁছে দেয় পাঠকদের কাছে। এছাড়া সমস্ত বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং স্কুলের শিক্ষকগনসহ বিভিন্ন ডাক্তার,সাংবাদিক,সমাজের সুধীজন বই বৃক্ষের সাথে যুক্ত আছেন যারা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে চলছেন বই বৃক্ষ কে। এইছাড়াও মেম্বারদের মাসিক ফি দিয়েও কিছু বই কেনা হয় বই বৃক্ষের পাঠকদের জন্য। বর্তমানে বাংলাদেশের ছয়টি শাখায় বই বৃক্ষের প্রায় ১,২৩৪টির মত বই রয়েছে।

বই বৃক্ষের লক্ষ্য ও মন্তব্যঃ
বাংলাদেশের প্রত্যেকটা উপজেলাতে বই বৃক্ষের একটা করে শাখা থাকবে যেখান থেকে পাঠকরা বিনামূল্যেই বাসায় বসে পছন্দের বইটি পড়তে পারবেন। বাংলাদেশে অনেক অনেক পাঠাগার আছে, শত শত বইয়ে পূর্ন, সুন্দর আসবাবপত্রে সাজা কিন্তু পাঠক নেই, শূন্য হাহাকার। আমরা সেই বাধাটাকে কাটিয়ে উঠতে পারবো। আমাদের কোনো শাখাতেই সামান্য একটা বই রাখার তাকও নেই, রুম তো দূরের কথাই তবুও আমরা দেড় বছরে শুধু ছয়টা জায়গা থেকেই ৩,৫২৯ জনকে বই পড়িয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের তরুনদের শক্তি দিয়ে অনেক বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব শুধু সঠিক গাইডলাইন আরও শুদ্ধ বিনোদন দরকার। বই বৃক্ষ চেষ্টা করছে সর্বদা। সবার দোয়া এবং সহযোগিতা কামনা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here