বইবন্ধু বীচ পাঠাগার; দেশের প্রথম বীচ পাঠাগার!

চট্টগ্রাম ট্রিবিউন ডেস্ক,
”ভাল বন্ধু, ভাল বই এবং একটি শান্ত বিবেক: এটি আদর্শ জীবন।“— মার্ক টোয়েন

বই মানুষের পরম বন্ধু। জাগতিক নিয়মে আলো যেভাবে অন্ধকার দূর করে, তেমনি বই মানুষের মনের যাবতীয় অন্ধকারকে দূর করে। বই চেতনা জাগ্রত করে। বই অতীত থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ যুগ থেকে যুগান্তরে জ্ঞানের আলো পৌঁছে দেয়। উচ্চতর শিখরে উঠতে সাহায্য করে। বই আত্মশুদ্ধিতে সাহায্য করে। বই অবসরে, নিঃসঙ্গতায় বিনোদন দেয়, বন্ধু হিসেবে পাশে থাকে।

বইবন্ধু নামের মাঝেই আলাদা ভাবে বইয়ের প্রতি অনুরাগ প্রকাশ পায়। ঠিক ধরেছেন, বই নিয়েই বইবন্ধুর সকল আয়োজন। বইয়ের মিছিল ছড়িয়ে দিয়ে পাঠক তৈরিতে বইবন্ধু সবসময় বদ্ধপরিকর। একঝাঁক পাগল মিলেমিশে বই নিয়ে পাগলামিতে মেতেছে। কখনোবা বইয়ের ব্যাগ নিয়ে ছুটেছে বাসে-ট্রামে, কখনো ছুটেছে হাসপাতালে, কখনো সেলুনে, কখনোবা অপেক্ষারত পরীক্ষার হলের বাইরে, কখনোবা ভ্রমণস্থানে।

২০১৮ সাল থেকে দীর্ঘ এই পথচলায় রয়েছে অনেক সুখ-দুঃখের স্মৃতি। কখনোবা কারো দুয়ারে গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে খালি হাতে, আবার দেখা গেছে কেউ কেউ দুহাত ভরে দিয়েছেন। শত শত পাঠকের ঢল নেমেছে বই বিনিময় উৎসবে। যাত্রাপথে নানা ঝড়-ঝঞ্ঝা পেরিয়ে বইবন্ধু সবসময় হাসিমুখে এগিয়ে গেছে বীরদর্পে। বড্ড সাহসীই মনে হয় এই যাত্রা। কন্টকময় পথও সেখানে ফুলে পরিণত হয়।

বই পড়ার সাথে পরিবেশের বেশ একটা ভালো যোগসাজেশ আছে। আর সুন্দর মনোরম পরিবেশে বইয়ের মাঝে ডুবে থাকার আমেজই আলাদা। বইবন্ধু ইতিমধ্যে ছড়িয়ে গেছে গ্রাম-গঞ্জে, শহরের অলিতে-গলিতে। প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয়েছে অনেক কিছুই। এবার সব অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু হলো “বইবন্ধু বীচ পাঠাগার” – এর।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কদম রসুল সমুদ্র সৈকত পয়েন্টে আজ বুধবার, ৪ঠা মে বিকেল ৪টা থেকে যাত্রা শুরু হলো “বইবন্ধু বীচ পাঠাগার” – এর। এতে উপস্থিত ছিলেন খানখানাবাদ ইউনিয়নের তারুণ্যের আদর্শের প্রতীক জনাব এনামুল হক চৌধুরী এবং পাঠকপ্রিয় লেখক সিরাজুল ইসলাম এফসিএ। জনাব এনামুল হক চৌধুরী বলেন- ” অত্র এলাকায় বই নিয়ে এমন অসাধারণ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। বইবন্ধুকে এমন মহৎ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।” এছাড়াও তিনি সবরকম সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

ভিন্নধর্মী এই আয়োজনের মাধ্যমে বইবন্ধু বইয়ের মিছিল ছড়িয়ে দিতে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে। বীচের কিছু পর্যটক বলেন- “বীচে মোহনীয় রূপের সাথে বই নিয়ে এমন আয়োজন এলাকাবাসীসহ সকল বইপ্রেমীদের জন্য অনেক আনন্দের। এখন থেকে বীচে সমুদ্রের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের সাথে বই পড়ে দারুণ অবসর কাটানো যাবে। এতে অপেক্ষমান সময় হবে আরো মধুময়।”

বইয়ের রাজত্ব হোক বিশ্বব্যাপী। বইয়ের মিছিল ছড়িয়ে যাক সর্বত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here