শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর - ২০২১
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১
আরও

    প্রবাসিদের আর্তনাদ কে শুনে?

    প্রবাসিদের আর্তনাদ কে শুনে?

    সাঈদী আলম,
    এতো বিরাট অট্টালিকা,চোখ ধাঁধানো ইমারত দেখতে পাচ্ছেন। খুঁজলে দেখতে পাবেন প্রবাসিদের অর্জন তার পেছনে।

    বাংলাদেশ প্রবাসিদের রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান রেমিট্যান্স আহরণে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্হান ষষ্ঠতম। বাংলাদেশের এই অবস্হানের পেছনে প্রবাসিদের অর্জনকে ছোট করে দেখবার সুযোগ নেই। রেমিট্যান্স যোদ্ধারা এদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখে। কোটির কাছাকাছি বাংলাদেশী লোক বিদেশে অবস্হান করছে। তবে জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন রিপোর্ট ‘১৯ মতে বিশ্বে সাতাশ কোটি মানুষ প্রবাসি হিসেবে বিভিন্ন দেশে অবস্হান করছে। বাংলাদেশের প্রবাসির সংখ্যা ৭৮ লাখ।তবে বেসরকারি মতে আরো বেশি। অধিকাংশ প্রবাসি শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্হান করছে। জীবনমানকে উন্নত করতে তারা প্রবাসকে বেঁচে নিয়েছে।সবাই যে ভালো অবস্হানে তা কিন্তু নয়। নিজের পরিবার পরিজন অাত্বীয়- স্বজনের মুখে হাসি ফুটানোর জন্যে শত কষ্ট বুকে চাপা দিচ্ছেন।দেশের দুর্দিনের সময়ও তারা পাশে থেকেছেন।একসময় শুনতাম দেশে ক্রাইসিস শুরু হলে প্রবাসিরা সবসময় তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। তাদের কষ্টের শ্রমের কথা বাদই দিলাম। তারা যে দুর্দিনে আছেন তাদের পাশে ক’জন পাশে দাড়িয়েছি ।

    কাজ নাই কাম নাই অলসজীবন পার করে মাসের পর মাস নিজের জন্যে যেমনি বিরক্তিকর তেমনি পরিবার পরিজনও দুশ্চিন্তায় ও দুঃখ দুর্দশায় থাকেন। কার যাতনা কে ঘুচবে।যারা স্হায়ী চাকরি করেন তাদের চাকরি বহাল থাকলেও সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। যারা সৌদি আরবসহ জিসিসি দেশগুলোতে আছেন বিভিন্ন কলকারখানা, রেস্টুরেন্ট,হোটেল,শফিংমলের ইত্যাদিতে চাকরি করেন অস্হায়ী ভিত্তিতে তাদের তো চাকরির কোন নিশ্চয়তা নেই। লকডাউনের পরে চাকরি যোগদান করতে পারবে কিনা। শুনা যাচ্ছে ইতিমধ্যে ছাটাই শুরু হয়েছে। এমতবস্হায় যারা দেনার টাকা নিয়ে প্রবাসে অবস্হান করছেন চাকরি যদি চলে যায় তাদের অার্তনাদ শুনবে কে? অনেকে অাছেন দীর্ঘদিন প্রবাস করছেন কোনরকম ফ্যামিলি চালায় দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় লকডাউনে আছে এদিকে ফ্যামিলিও দেশে বিদেশে উভয়কূল সংকটে আছে ।তাদের নিরব কান্নাগুলো কে বুঝে? মাঝেমধ্যে কিছু খবর পীড়াদেয় দেনার টাকা ও ফ্যামিলি ক্রাইসিসের কারণে অাত্মহত্যার পথ বেঁচে নিয়েছে। সবাই মনে করছে তাদের ফ্যামিলি ভালো মতে চলছে বাস্তবতা ভিন্ন। পাতিলে যে চাল নেই সেটার খবর রাখে কে?আবার এমন কিছু প্রবাসি আছেন দীর্ঘদিন বাসাবন্দি থাকায় অভাবের দরুণ বাড়ি থেকে উল্টো টাকা পাঠাতে হচ্ছে। যারা বিদেশে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে ১৪৫ সহ তিনশোর কাছাকাছি এখনো পর্যন্ত খবর পাওয়া গেছে। তাদের লাশ দেশে নিয়ে আসা আপাতত সম্ভবনা নাই বললে চলে। দেখার সুযোগও নেই। কার প্রিয়জন কিভাবে দাফন কাফন করা হচ্ছে তাও খুব একটা জানার সুযোগ নেই। এদের ফ্যামিলি দায়ভার কে নেবে? হাজার হাজার প্রবাসি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছে কিনা কে জানে? তবে অনেক রাষ্ট্র প্রবাসিদের চিকিৎসা আইসোলেশনের থাকার, চিকিৎসার সুযোগ রেখেছে।যেহেতু চাকরির বাজার সংকোচন হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ প্রবাসিদের ফেরত অানতে চাপ প্রয়োগ করছে । এব্যাপারে সরকারও দিধায় আছে। এমনিতে দেশে বেকারের সংখ্যা কয়েক কোটি। নতুন করে যোগ হলে সবকিছুর ধস নামবে। বিগত বছরের তুলনায় সরকার ২০১৮-১৯ অর্থ বছর সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আহরণ করেছে। যার পরিমাণ হলো ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। কিন্তু এইবছর রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে রের্কড় পরিমাণ ধস নামবে এটা নিশ্চিত বলা যায়।করোনা পরবর্তি সরকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্হিতি মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত তা সময় বলে দেবে। ইতিমধ্যে দেশবাসি লক্ষ্য করেছে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত।মুনাফা আসলে কতটুকু মিল বাস্তবতা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। প্রবাসিদের কল্যাণে গত ২৫ মার্চ ‘২০ করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত মনিটরিং কমিটি গঠন সভায়। ‘করোনা ভাইরাস: প্রবাসিদের অবস্হা এবং সরকারের উদ্যোগ’ নামে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এবং আশ্বাস প্রদান করেছে তবে কতটুকু বাস্তবায়ন হলো তা শেষ অবধি অপেক্ষা করতে হবে। তবে যে বিষয়টি নজর কেড়েছে। সরকার বিভিন্ন খাতকে লক্ষ্য করে যে প্রণোধনা ঘোষণা করেছে। দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠী প্রবাসি শ্রমিকদের জন্যে কোন প্রণোধনা লক্ষ্য করা যায়নি। আশা করছি প্রবাসিদের কল্যাণের দিক বিবেচনায় রেখে সরকার শীঘ্রই প্রণোধনা ঘোষণা ও বিশেষ প্রজেক্ট হাতে নিবে।যারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে। তাদের ফ্যামিলির জন্যে এককালিন সহযোগিতা করা । বিদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন তাদের ফ্যামিলির ব্যয়ভার বহন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা। যারা লকডাউনে মানবতের জীবনযাপন করছে এলাকাভিত্তিক তালিকা করে সরকারি ত্রাণ নিশ্চিত করা। এবং প্রণোধনা প্রজেক্টের আওতাভূক্ত করা। তবে কিছু এলাকায় সামাজিক সংগঠন অসহায় প্রবাসি শ্রমিকদের পাশে দাড়িয়েছে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৃহত্তর সিলেটে জালালাবাদ এসোসিয়েশন লিবিয়া বেনগাজি ,বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইন বেনগাজি, মিরসরাই সমিতি কুয়েতসহ বেশ কিছু সংগঠন ।

    সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন সংগঠন অসহায় দিনমজুর, শ্রমিকদের যেভাবে সহযোগিতা করেছে। প্রবাসি শ্রমিকদের পাশে সেভাবে খবরাখবর রেখে সহযোগিতার হাত বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছি । তবে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে তা কিন্তু নয়। যাদের সামর্থ আছে সামর্থহীনদের সহযোগিতা করুন। অনেকে আছে লোকলজ্জায় কাউকে বলতে পারে না। সে প্রতিবেশিকে কিন্তু না বললে মোটামুটি আঁচ করতে পারেন। এভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে একজন অপরজনের পাশে থাকি। সুদিনে আমরা, দুর্দিনেও আমরা।
    লেখকঃ শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

    9,705FansLike
    36FollowersFollow