শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর - ২০২১
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১
আরও

    নোয়াখালীতে আরোও করোনায় আক্রান্ত ১৪ জন শনাক্ত

    নিজস্ব প্রতিবেদক, 
    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মীরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের বেচারদোকান এলাকায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী মো. তারেক (২৯) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। সোমবার (১১ মে) তার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। এছাড়া জেলায় আরও ১৩ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ৪৮ জন করোনা শনাক্ত হলেন। সোমবার সকালে সিভিল সার্জন ডা. মো. মোমিনুর রহমান এসব তথ্য জানান।

    তিনি জানান, জেলার বেগমগঞ্জে আট জন, সোনাইমুড়ীতে পাঁচ জন এবং সদরে একজনসহ মোট ১৪ জন নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

    বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার দাস বলেন, ‘গত ৬ মে সকালে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী মো. তারেক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়ে যান। ওইদিন সন্ধ্যায় মীরওয়ারিশপুরের ভাড়া বাসায় মারা যান তনি। মৃত তারেকের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে করোনা পজিটিভ এসেছে। এছাড়া হাজীপুরের একজন (৩০), কিছমত করিমপুরের একজন (৭০), লক্ষ্মীণারায়ণপুরের একজন পুরুষ (৮০) ও একজন নারী (৩০)-সহ দু’জন, চৌমুহনী বাজারের ফেনী রোডের (৬০) একজন, মীরওয়ারিশপুরের একজন (৩০) ও চৌমুহনী পৌরসভার উত্তর নাজিরপুর গ্রামের (৩০) একজনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে।’

    তিনি আরও জানান, আক্রান্তদের মধ্যে চৌমুহনী বাজারের এক কাপড় ব্যবসায়ী ও এক মুদিদোকানি রয়েছেন। আক্রান্তদের বাড়ি এবং দুই ব্যবসায়ীর দোকান লকডাউন ঘোষণা করে তাদের হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এছাড়া তাদের সংস্পর্শে আসাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।

    সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রিয়াজ উদ্দিন জানান, গত ৫ মে পাঠানো নমুনায় তিন শিশু ও দুই নারীর দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে দেওটি ইউনিয়নের দুই নারী (৫৫), (২৩) ও এক শিশু (১০) রয়েছে। অপর দুই শিশু নদনা ইউনিয়নের। আক্রান্তদের তেমন কোনও উপসর্গ না থাকায়, বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করে তাদের হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এছাড়া, শনাক্তদের সংস্পর্শে আসা তিনটি বাড়ির সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।

    সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গত ৩ মে পৌরসভার হাসপাতাল সড়কের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ২০ বছর বয়সী নোয়াখালী কলেজের এক ছাত্র নমুনা দিয়েছিল। পরীক্ষায় তার করোনা শনাক্ত হয়েছে। তার বাসা লকডাউন ঘোষণা করে, তাকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।’

    উল্লেখ্য, জেলায় আক্রান্ত ৪৮ জনের মধ্যে বেগমগঞ্জে ২০ জন, সোনাইমুড়ীতে ৯ জন, সদরে সাত জন, হাতিয়ায় পাঁচ জন, চাটখিলে তিন জন, কবিরহাটে দুই জন, সেনবাগে একজন ও কোম্পানীগঞ্জে একজন রয়েছেন।

    মারা গেছেন দুজন। তারা হলেন—সোনাইমুড়ীর ইতালী প্রবাসী মোরশেদ আলম (৪৫), সেনবাগের রাজমিস্ত্রি মো. আলী আক্কাস (৪৫) ও বেগমগঞ্জের তারেক হোসেন (৩০)।

    আইসোলেশনে থেকে করোনা জয় করে বাড়ি ফিরেছেন তিন জন। তারা হলেন—সোনাইমুড়ি উপজেলার করোনা মৃত ইতালি প্রবাসী মোরশেদ আলমের তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শারমীন আক্তার (৩০) এবং বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা সংলগ্ন আপন নিবাসে বসবাসরত মা খতিজা বেগম (৬০) ও ছেলে আমজাদ হোসেন টিপু (৩২)।

    ©বাংলা ট্রিবিউন

    9,705FansLike
    36FollowersFollow