নানান উপকারিতায় আদা’র ব্যবহার

মাসুদা আকতার ,বিশেষ প্রতিনিধিঃ
আদা একটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। গাছ ১মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। এর পাতাগুলো সুন্দরভাবে সাজানো এবং সুবিন্যস্ত। পাতা ৩০-৩৫ সেন্টি মিটার লম্বাকৃতি এবং গাঢ় সবুজ বর্ণের । গাছের কন্দ বা মূল প্রাচীনকাল থেকে দৈনন্দিন রান্নার কাজে এবং বিভিন্ন ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে আসছে। আদার স্বাদ তীব্র ঝাল। আদাকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুকিয়ে নেওয়া হয় যাবে আমারা শুঁট বা শুটি বলে থাকি।

আদা মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ভিন্নভাবে আদা খাওয়ার রয়েছে নানা উপকারিতা। নিয়মিত আদা-পানি পানে অনেক সুফল পাওয়া যায়। গরম পানিতে আদার টুকরা দিয়ে ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। চাইলে লেবুর রস ও মধু মেশাতে পারেন। এটি নিয়মিত পান করলে দূরে থাকতে পারবেন বিভিন্ন রোগ থেকে

পেটের অস্বস্তি বা পীড়ায় আদা একটি আদর্শ পথ্য। হজমে সহায়তার পাশাপাশি খাবারের গুণাগুণ শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে আদা। কিছু খাওয়ার পর পেটব্যথায় ভোগার সমস্যা হলে তা দূর করে আদার রস। পেটে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও প্রতিরোধ করে এটি।

ফুসফুসের জন্য আদা উপকারীঃ-

ফুসফুসের সাধারণ যে কোন সংক্রমণ বা রোগের ক্ষেত্রে আদা বেশ কার্যকরী। সর্দি- কাশি, শ্বাস- প্রশ্বাসের সাধারণ সমস্যা দূর করে আদা। গলা ও স্বরতন্ত্রী পরিষ্কার রাখে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় আদাঃ-

দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় আদা। এক গবেষণায় দেখা গেছে, আদার রস দাঁতের মাড়িকে শক্ত করে, দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা লুকানো জীবাণুকে ধ্বংস করে।

ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে আদাঃ-

দেহের কোথাও ক্ষত থাকলে তা দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে আদা। এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি, যা কাটাছেঁড়া, ক্ষত দ্রুত ভালো করে।

হার্ট ভালো রাখতে আদাঃ-

রক্তের অনুচক্রিকা এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম ঠিক রাখতে আদা খুবই কার্যকর।ধমনীর চাপ দূর করে আমাদের হৃদ যত্নের কর্মক্ষমতা বাড়াতে দারুণভাবে কাজে আসে আদা এবং মধু। শুধু তাই নয়, রক্ত চাপ স্বাভাবিক রাখতে এবং রক্তনালীর সমস্যা দূর করতে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের সম্ভাবনা কমাতেও এই দুই প্রকৃতিক উপাদানের কোনও বিকল্প নেই।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে আদাঃ-

ডায়াবেটিসজনিত কিডনির জটিলতা দূর করে আদা। গর্ভবতী মায়েদের সকাল বেলা, বিশেষ করে গর্ভধারণের প্রথম দিকে শরীর খারাপ লাগে। কাঁচা আদা দূর করে এ সমস্যা।

রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে আদাঃ-

পরিমিত আদা খাওয়ার অভ্যাসে শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়। আদায় রয়েছে ক্রোমিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্ক। এসব উপাদান রক্ত প্রবাহের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে।

বমিভাব দূর করে আদাঃ-

যানবাহনে চড়ার সময় কেউ কেউ অস্বস্তিতে ভোগেন বা কিছুক্ষণ গাড়িতে থাকার পর বমি চলে আসে। বমি বমি ভাব দূর করতে আদার ভূমিকা অপরিহার্য। বমি ভাব হলে কাঁচা আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। এটি তাৎক্ষণিক উপকার মেলে। আর এতে মুখের স্বাদও বাড়ে।

ঠাণ্ডা-জ্বরে আদাঃ-

ঠাণ্ডা লাগা ও ভাইরাস জ্বর প্রতিরোধে আদা বিশেষ ভূমিকা রাখে। আদার রস একটু গরম করে সমপরিমান মধুর সাথে মিশিয়ে দিনে কয়েকবার খেলে ঠাণ্ডা লাগা ও ভাইরাস জ্বর সেরে যায়

মাংসেপেশির ব্যাথা লাঘব করেঃ-

জিমে যাওয়ার আগে আদা খান। গবেষণায় দেখা গেছে, আদা একটি প্রাকৃতিক ব্যাথা উপশমকারী এবং প্রদাহরোধী উপাদান হিসেবে কাজ করে। ভারী ব্যায়াম করার পর মাংসপেশিতে যে ব্যাথা সৃষ্টি হয় তা দূর করে আদা।

মাইগ্রেনের ব্যাথাও দূর করেঃ-

মাইগ্রেনের ব্যাথা সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাথা। আদার রয়েছে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণ দমনের ক্ষমতা। যা রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোকে স্ফীত হওয়া এবং চাপ সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখে।

ক্যান্সার রোধ করেঃ-

মধুর সঙ্গে আদা মিশিয়ে খেলে তা ক্যান্সার রোধ করতে পারে। কারণ এই দুই উপাদানের মধ্যেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে দেয় এবং ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়।

পুরানো আমাশয় দুর করেঃ-

বহুদিনের আমাশয়ে যারা ভুগছেন, কিছুতেই সারছে না, এক্ষেত্রে আদাকে শুকিয়ে গুঁড়ো করে, এক গ্রাম পরিমাণ গুঁড়ো হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে। তবে নিয়মিত খাওয়া দরকার। এতে আম পরিপাক হবে এবং আমাশয় কমে যাবে।

স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা কমায়ঃ-

রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণে স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। আর এক্ষেত্রে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।তাই এ থেকে সাবধান হাওয়াটা খুব জরুরি। নিয়মিত আদা এবং মধু খাওয়া শুরু করুন। কারণ এই দুটি উপাদান রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্ট্রোকের আশঙ্কা দূর হয়।

হেয়ার ফলের মাত্রা কমেঃ-

চুলের পরিচর্যায় কাজে লাগানো যায় আদাকে। এতে হেয়ার ফলের মাত্রা তো কমবে,সেই সঙ্গে চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।আসলে আদার মধ্যে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস এবং আরও নানাবিধ উপকারি উপাদান হেয়ার ফলিকেলের মধ্যে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চুল এতটাই শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে যে হেয়ার ফলের আশঙ্কা কমে। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে ১ চামচ আদার পেস্ট নিয়ে তার সঙ্গে ১ চামচ অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল মিশিয়ে সেই মিশ্রনটি স্কাল্পে লাগিয়ে ধীরে ধীরে মাসাজ করতে হবে। এরপর ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে দুবার এইভাবে চুলের পরিচর্যা করলেই সুফল মিলবে।তাছাড়া চুলের গ্রাথ বাড়াতে কাজে আসে,খুশকি দূর করে,চুলকে আদ্র রাখে এবং চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

রক্তপাত বন্ধ করতে আদাঃ-

শরীরের কোথাও অনেকটা কেটে গেলে কিংবা রক্তপাত বন্ধ হচ্ছে না, এ সময় খানিকটা শুকানো আদার গুড়ো নিয়ে কাটা স্থানে চেপে ধরলে রক্তপাত বন্ধ হবে এবং কাটা স্থানটি তাড়াতাড়ি জোড়া লাগতে সাহায্য করবে।

আমবাত দূর করেঃ-

শরীরে চাকা চাকা দাগ হয় এবং লাল হয়ে ফুলে ওঠে, এক বছর বা আগে তৈরি দুচামচ পরিমণ আখের গুড়ের সঙ্গে এক চামচ আদার রস মিশিয়ে খেলে আমবাত কমে যাবে। তবে ওষুধ খেয়েও পায়খানা পরিস্কার না হলে আমবাত কমবে না। কাজেই একে নির্মূল করতে পেট পরিস্কার করার ওষুধ খাওয়া দরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here