নগরীর ফুসফুস খ্যাত সিআরবি’র শিরীষতলা ধ্বংস করে হতে যাচ্ছে বেসরকারী হাসপাতাল!

ফারহান উদ্দীন সোহাগ, নিজস্ব প্রতিনিধি:
ইট-পাথরের যান্ত্রিক শহরে হাজারো বিষাদের মাঝে বন্দর নগরীর মানুষ যেখানে একটু প্রকৃতির ছোঁয়া পায়, খুঁজে পায় মানসিক প্রশান্তি সেটা সিআরবি’র শিরীষতলা।

একসময় এলাকাটি অন্ধকারে ডুবে থাকলেও গত দশ/বারো বছর যাবৎ মানুষের বৈকালিক ভ্রমনের জন্য পছন্দের জায়গা হিসেবে সমাদৃত হয়ে অাসছে।

শতবর্ষীয় গাছে পাহাড়ী সৌন্দর্য্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এলাকাটিকে চট্টগ্রাম শহরের ফুসফুস বা অক্সিজেনের অাঁধার বলা যেতে পারে। বাঙালির ঐতিহ্যে লালিত পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা বেশ ক’বছর ধরে জাঁকজমকের সাথে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে সেখানে।

অথচ সেই শত বছরের পুরনো গাছপালা কেটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে, বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতাল তৈরির স্থান নির্ধারণ করে সাইনবোর্ড দিয়েছে সিআরবি কতৃপক্ষ।

এরপর হতে বন্দরনগরীর হাজারো প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

বৃটিশ আমলে, আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে বা আসাম বাংলা রেলপথ ছিল ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম প্রধান রেল সংস্থা। অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্তর্গত চট্টগ্রাম শহরে এই রেল সংস্থার প্রধান কার্যালয় অবস্থিত ছিল, যার ফলে এই শহরজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রেলের অনেক জায়গা- ফয়েজ লেক, পাহাড়তলী, আমবাগান, জিলাপী পাহাড়সহ ইত্যাদি৷

ধ্বংস হতে চলা চট্টগ্রাম শহরের অতীতের সবচেয়ে সুন্দর অংশ হিসেবে এখনো টিকে আছে সিআরবি-টাইগার পাস এরিয়া, এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সিআরবি’র শিরীষতলা।

অতীতে রেলের সম্পদ ফয়েজ লেক অল্প টাকার বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদী লীজ দেয়ায় ফয়েজ লেক চলে গেছে সাধারণ নাগরিকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। (পূর্বে ফয়েজ লেকের এন্ট্রি টিকেট ছিলো শুধুমাত্র ৩ টাকা, আর এখন কনকর্ডের হাতে দেয়ার পর বহুগুণ বেড়ে প্রায় ৩০০ টাকা অথবা আরো বেশি। রেলওয়ে কনকর্ড কোম্পানি থেকে পাচ্ছে বছরে মাত্র ১৬ লাখ টাকা যেখানে প্রতিবছর ৩৩৬ একর জমির ভূমিকর হিসেবে রেলওয়েকে দিতে হয় প্রায় দুই কোটি টাকা)

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে এখন নগরীর হৃদপিন্ড খ্যাত, নগর ঐতিহ্য সিআরবি’র শিরীষতলাকেও অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে তুলে দেয়া হচ্ছে ইউনাইটেড গ্রুপের হাতে এক্সপেনসিভ প্রাইভেট হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ বানাতে।

অথচ ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালগুলোর খরচ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর খরচ মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষদের বহন করার সামর্থ্যের বাইরে। তাই এই হাসপাতাল থেকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষেরা উপকার পাবেনা বলে দাবি অনেকের!

এক সাক্ষাৎকারে চট্টলার অধিকার ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা কাইসার আলী চৌধুরী চট্টগ্রাম ট্রিবিউনকে বলেন- আমরা হাসপাতাল চাই, কিন্তু চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবি’র গাছপালা কেটে হাসপাতাল বানালে আমাদের শ্বাস নেওয়ার জায়গা সংকীর্ণ হয়ে যাবে। তাই আমরা চাই এই হাসপাতাল সিআরবি’র শিরীষতলায় নয় বরং অন্য কোথাও হোক। চট্টগ্রাম শহরের স্বার্থেই সিআরবি’র শিরীষতলাকে অবিকৃত রাখার জোড় দাবি তার। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম শহরের জনসংখ্যার অনুপাতে আরো হাসপাতালের প্রয়োজন আছে, কিন্তু তাই বলে তা অক্সিজেনের অাঁধারকে ধ্বংস করে, তা মোটেও কাম্য নয়।

তাই হাসপাতালের নামে সবুজের এই ধ্বংস প্রক্রিয়ার শতভাগ বিপক্ষে হাজারো প্রকৃতিপ্রেমী সাধারণ মানুষ।

এই বিষয়ে রেলওয়ে কোনো কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here