জল্পনা কল্পনার মধ্য দিয়ে আগামি ১৩ই জানুয়ারী হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচন

মোঃ জিপন উদ্দিন, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ মইনউদ্দীন খান বাদল গত ৭ নভেম্বর ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত ২০০৮ সাল থেকে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদে ২৮৫-চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেন।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল মারা যাওয়ায় তার আসনে আগামী ১৩ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কে সামনে রেখে পাল্টে যাচ্ছে চট্টগ্রাম-৮ আসনের (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) উপনির্বাচনে ভোটের হিসাব নিকাশ।চারমুখী লড়াইয়ে জমে উঠছে চট্টগ্রাম-৮ আসনের (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) উপনির্বাচন।

শুধুমাত্র আওয়ামী লীগেরই ১৪ মনোনয়ন প্রত্যাশীর ভিড়ে যখন নৌকার টিকিট কে পেতে যাচ্ছেন তা নিয়ে উন্মুখ সকলে।নৌকার হিসাব যখন এরকমই তখন স্বাভাবিকভাবে ধানের শীষের প্রার্থীকেও দেখার বিষয়।

বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টেরই একক
প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান সেটা তো নিশ্চিত। আর নৌকার প্রার্থী হতে যাচ্ছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দীন আহমেদও।তা কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা মাত্র।

এমন সমীকরণের মাঝে ইতোমধ্যে জাতীয়
পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দীন
আহমেদ বাবলুকে জাপা থেকে এই আসনে
প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে,এই তিন জনের মধ্যেই হবে ত্রিমুখী আসল ভোটের লড়াই। এরমাঝে চমকপদ খবর হলো নির্বাচন করছেন চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসন
থেকে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির হয়ে
বারবার নির্বাচিত সাংসদ এম মোরশেদ খান। যিনি গত নভেম্বরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

তবে,এবার উপ নির্বাচনে অংশ নিবেন
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। চট্টগ্রাম থেকে
মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার পাশাপাশি
আনুষ্ঠানিকভাবে তা সংবাদ সম্মেলন করে
প্রকাশ করবেন বলে তার ঘনিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে।

গত নবম, দশম ও চলমান একাদশ সংসদ
নির্বাচনে ভোটে অংশ না নিলেও এই আসনে জাতীয় পার্টি ও বিএনপি থেকে দুই বার করে চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এম মোরশেদ খান। এরমধ্যে একবার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত আরেকবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।কিন্তু গত তিন সংসদ
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় এই
আসনে বিএনপির ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থীর
বিরুদ্ধে জিতে সংসদে যান প্রয়াত মইনউদ্দীন খান বাদল।

শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মোরশেদ খান তার এক আত্মীয়কেও বলেছেন, ‘আই নির্বাচন গইজ্জুম’(আমি নিবার্চন করব)।এছাড়া বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।
জানা গেছে, সরকারের প্রভাবশালী এক
উপদেষ্টার সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে উপ
নির্বাচন নিয়ে সরকারের মনোভাব বুঝেই
মোরশেদ খান স্বতন্ত্র হলেও নির্বাচন করার
আগ্রহ দেখাচ্ছেন। মোরশেদ খানকে বলা
হয়েছে নির্বাচন গতবারের তুলনায় অনেকটা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। সব মিলিয়ে নানা হিসাব নিকাশ শেষে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন এ আসনের চার বারের সাংসদ এম মোরশেদ খান।

স্বাধীনতাত্তোর ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে নৌকা প্রতীকে সাংসদ হন আওয়ামী লীগের মরহুম এম কফিল উদ্দিন, দ্বিতীয় সংসদে সিরাজুল ইসলাম, তৃতীয়,সংসদে জাতীয় পার্টির মনজুর মোরশেদ খান,চতুর্থ সংসদে বিএনপির সিরাজুল ইসলাম,পঞ্চম সংসদে বিএনপির সিরাজুল ইসলাম, ৬ষ্ঠ সংসদে জাতীয় পার্টির হয়ে মনজুর মোরশেদ খান, ৭ম সংসদ, ৮ম সংসদে বিএনপির মনজুর মোরশেদ খান এরপর থেকে টানা নবম, দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মহাজোটের শরীক জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল সাংসদ হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here