চন্দনাইশে ঢিলে-ঢালাভাবে চলছে লকডাউন

মাঈন উদ্দীন, চন্দনাইশঃ
চন্দনাইশে ঢিলে-ঢালাভাবে চলছে লকডাউন। দেখে যেন মনে হচ্ছে ঢিলা-ঢালা হরতাল। সরকারীভাবে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষনা করা হলেও চন্দনাইশে সরকারী নির্দেশনা মানা হচ্ছে না অধিকাংশ ক্ষেত্রে।

আজ ৫ এপ্রিল লকডাউনের প্রথম দিনে মানা হয়নি কোন নির্দেশনা। প্রশাসনও নিরব রয়েছে দায়িত্ব পালনে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার জনবহুল এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে লকডাউনের যেন কোন খবর নেই। উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে অবাধে চলছে যাত্রীবাহী অটোরিক্সা তথা গণপরিবহন, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। সকাল থেকে সাধারণ মানুষ অন্যন্য দিনের ন্যায় সড়কে নেমে পড়েছে। চন্দনাইশে আনুষ্ঠানিক লকডাউনের শুরুটা হয়েছে এভাবেই। তবে সময় গড়াতেই সড়কে বেড়েছে রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশার আধিক্য। দুরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস চলাচল না করলেও সড়কে চলছে ট্রাক, হিউম্যান হলার, টেম্পো,যাত্রীবহনকারী পিকআপ। কিছু কিছু মাইক্রো, প্রাইভেট কার চলাচল করতে দেখা গেছে সড়কে। চট্টগ্রাম থেকে আসছিলেন চন্দনাইশ ইউএনও অফিসে কর্মরত মেরী চৌধুরী। তিনি বললেন, অনেক কষ্ট করে চট্টগ্রামের বাসা থেকে কয়েকটি সিএনজি টেক্সী পরিবর্তন করে অনেক টাকা ব্যয়ে চন্দনাইশ এসেছেন। তবে চন্দনাইশে আসার পর লকডাউনের কষ্টে পড়তে হয়নি। বেসরকারী সংস্থার একজন কর্মচারী আবদুল মবিন বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকে লকডাউনের কারণে কয়েকটি সিএনজি চালিত টেক্সি পরিবতন করে আসতে হয়েছে। মনে হচ্ছে যেন ঢিলে-ঢালা হরতাল পালিত হচ্ছে। চট্টগ্রামে দোকানপাঠ খোলা ছিল না, সড়কে যানবাহনও তেমন নাই। কিন্তু চন্দনাইশ এলাকায় কোন ধরণের লকডাউনের চিত্র চোখে পড়ছে না। পুলিশ বা প্রশাসনের কোন লোকজনও লকডাউন বাস্তবায়নে সড়কে কাজ করতে দেখা যায়নি। এদিকে সাতঘাটিয়া পুকুর পাড় এলাকায় সারি সারি বাস দাড়িয়ে আছে। পরবতর্ী ঘোষনা না আসা পযন্র্Í কোন বাস ছাড়বে না বলে জানিয়েছেন বাস মালিকদের মধ্যে সিরাজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের ন্যায় সকাল থেকে সকল প্রকার দোকানপাঠ খোলে বসেছে ব্যবসায়ীরা। সড়কে অবাধে চলাচল করছে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, যাত্রীবাহী পিকআপ। দোহাজারী শপিংমল গুলোতে কিছু কিছু দোকান খোলা রাখলেও অধিকাংশ দোকান বন্ধ রাখেন। তবে খাঁনহাট ওয়ান আজিজ,বাছুরা শপিংসহ অন্যান্য শপিংমল গুলো খোলা রাখলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন রকম পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। উপজেলার কাযার্লয় গুলোতে অনেক অফিস প্রধানকে ১২টা পযন্র্Í কাযার্লয় পাওয়া যায়নি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজা জেরিনকে ১২টার সময় তার কাযার্লয়ে না পেয়ে কানুনগোর সাথে কথা বললে তিনি বলেছেন,স্যার এখনো বাসায় রয়েছেন, চলে আসবেন। তিনি জরুরি কাজের মধ্যে নামজারী মামলার ফাইল নিয়ে কাজ করছেন এবং এগুলো জরুরি কাজের আওতায় রয়েছে বলে জানান। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একজন ঝাড়–দার ছাড়া কেউ ছিল না। হিসাবরক্ষণ অফিস ও কৃষি অফিসে অফিস প্রধানগন উপস্থিত ছিলেন না। সমাজ সেবা ও নিবার্চনী কর্মকতার্র কাযার্লয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় তারা ভিতরে কয়েকজনকে অবস্থান করতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা র্নিবাহী কর্মকতার্ ইমতিয়াজ হোসেন বলেছেন, লকডাউনের ব্যাপারে তিনি এখনো তেমন কোন নির্দেশনা সম্পর্কে অবগত নন। তাকে আরো পড়ে কি করতে হবে জেনে নিয়ে কাজ করবেন। তাছাড়া আজ ৫ এপ্রিল বিকাল ৪টায় মাননীয় ভূমিমন্ত্রীর সাথে ভাচুর্য়ালে বিভিন্ন উপজেলার সহকারী কমিশনার ও ইউএনওদের সাথে মিটিং এ নির্দেশনা পাওয়ার পর পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে জানান। তবে দিনে দিনে সব ঠিক করা সম্ভব নয়, তাই সাধারণ মানুষকে সচেতনতার মাধ্যমে লকডাউন কার্যকর করার পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান। চন্দনাইশে লকডাউনের চিত্র ভিন্নতা সম্পর্কে তিনি কি পদক্ষেপ নেবেন এ ব্যাপারে কোন রকম সদত্তোর দেয়নি। অন্যদিকে থানা অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দীন সরকারড বলেছেন, লকডাউন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এক্সিউটিব ক্ষমতা বলে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। পুলিশ মোবাইল কোর্ট বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। তবে তিনি সচেতনতার জন্য মাইকিং করছেন বলে জানান। তাছাড়া বিকাল থেকে পুলিশ মাঠে থেকে লকডাউন সঠিকভাবে বাস্তবায়নে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here