ককসবাজারে এক পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার অভিযোগ

কক্সবাজার সংবাদদাতা:
দেশে কঠোর আইন কানুন থাকলেও মানছে না কেউ। দিন দিন আইনের অপব্যবহার হচ্ছেই। ক্ষতিগ্রস্ত কোন ব্যক্তি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ বা আবেদন করলেই প্রশাসনের টনক নড়ে। শুধুমাত্র অভিযুক্ত ব্যক্তি কে জেল জরিমানা করে মামলা শেষ। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর কোন নিয়মিত তদারকি নেই বললে চলে। দেশের প্রত্যেক জেলা উপজেলার গ্রামেগঞ্জে কথিত পল্লী চিকিৎসক নামধারী কিছু সশিক্ষিত ব্যক্তি ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে তুলছে ফার্মেসী।এ ফার্মেসীর ব্যবসা দিন দিন বাড়ছেই। রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ পত্র, ফার্মাসিস্ট এবং ড্রাগ লাইসেন্স, ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া যেকোনো ঔষধ বেঁচা বিক্রি ব্যাপারে সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও তা অনেকেই মানছেনা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদারকি না থাকার কারণে এমনটাই সুযোগ পাচ্ছে বলে জানান সচেতন মহল। কিছু অসাধু ব্যক্তি পল্লী চিকিৎসক নাম দিয়ে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে ছিনিমিনি করছে। এমনকি মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে বাংলাবাজার স্টেশন থেকে চেরাংঘর বাজার পর্যন্ত একরোডে ২ ডজনের অধিক ফার্মেসি গড়ে উঠেছে।এই ফার্মেসি গুলোতে নিবন্ধনধারী রেজিস্টার্ড কোন ডাক্তার ও ফার্মাসিস্ট কর্মরত নেই।এসব ফার্মেসীতে একেকজন ডাক্তার নামধারী চিকিৎসক কোনো বাছবিচার না করে যেকোনো মানুষের জটিল রোগের চিকিৎসা করছে। মেসার্স আমিন ব্রাদার্স ফার্মেসি, মেসার্স শর্মা ড্রাগ হাউস, মেসার্স শর্মা মেডিকেল, মেসার্স শর্মা ব্রাদার্স, মা মেডিকো, রহমান মেডিকো, মেসার্স আলম মেডিকেল, মেসার্স বিউটি ফার্মেসি, জাহানারা মেডিকেল হল, মেসার্স হক মেডিকো, হাজী বজল আহমদ ফার্মেসি, অনিকা প্লাস মেডিসিন সেন্টার, মেসার্স খায়ের মেডিকো, ভ্যাকসিন কেয়ার, মেসার্স আরাফাত এন্ড রিফাত মেডিকো, রিমু মেডিকোসহ সাইনবোর্ড ব্যবহার না করে আরো অন্যান্য একাধিক ফার্মেসিতে দেশের আইন-কানুন তোয়াক্কা না করে কৌশলে অপচিকিৎসায় লিপ্ত রয়েছে বলে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

উক্ত এলাকার অবৈধভাবে গড়ে তোলা ফার্মেসিগুলোর বিরুদ্ধে বারবার বিভিন্ন অভিযোগ করে আসছিল স্থানীয়রা।সম্প্রতি সময় স্থানীয় চেরাংবাজারের “মা’ মেডিকোর স্বত্তাধিকারী জিপিসি ডাক্তার গৌরঙ্গ কুমার শর্মা’র বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় পরনিয়াপাড়া এলাকার তাসলিমা আক্তারের ডায়রিয়া (পাতলা পায়খানা) হলে ডাক্তার গৌরঙ্গের কাছে চিকিৎসার জন্য গেলে তার অপচিকিৎসার শিকার হয়ে বর্তমানে হাসপাতালের সীটে কাতরাচ্ছে বলে জানান রোগীর স্বজন।যে কারণে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানান ভুক্তভোগী রোগীর ভাই সাজ্জাদুল ইসলাম।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অত্র ইউনিয়নের হিন্দুপাড়া এলাকার বাসিন্দা জিপিসি গৌরঙ্গ কুমার শর্মা চেরাংঘর বাজারে ফার্মেসি দিয়ে নিজে ডাক্তার বনে গেছেন। নামের আগে ডাক্তার উপাধি ব্যবহার তার নিজস্ব প্যাডে নিয়মিত লিখছেন প্রেসক্রিপশন এবং দিচ্ছেন প্যাথলজিক্যাল টেস্ট। নিজ ফামের্সি থেকে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি রোগী দেখার ফি নিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী রোগীর স্বজন সাজ্জাদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তার বড় আপার ডায়রিয়া ও পেট ব্যথা হলে তারা ডাক্তার গৌরাঙ্গের শরণাপন্ন হন। অসময় ডাক্তার গৌরাঙ্গ তার নিজস্ব প্রেসক্রিপশন প্যাডে Tab.Zimax 500 mg, Tab.Nitanid 500 mg, Tab.Doxofyl 200 mg, Tab.Fenox 120 mg, Tab.M kast 10 mg, Tab. Rolac 10 mg, Tab P zink 20 mg, Tab. Algin 50 mg, Cap. Esumep 20 mg. ORS সহ ১২টি ঔষধ লিখে তার ফার্মেসি থেকে ঔষধ আমাদেরকে দেন। তার ফি ও ঔষধের দাম ১২ শত টাকা নিয়েছে। ঔষধ নিয়ে বাড়িতে গিয়ে রাত্রে এক ডোজ খাওয়ার পর আমার আপুর মারাত্মক অবস্থা ধারণ করে প্রচন্ড মাথা ব্যথা, শরীর কম্পন, বুক ধড়ফড়, হাত পা ও শরীর অবস হয়ে ফুলে যেতে লাগল এমন অবস্থায় ওনার সাথে ফোনে আলাপ করলে ধমক দিয়ে কিছুক্ষণ পরে ভালো হয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতলে নিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এই অবস্থাই রোগী মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান রোগীর ভাই।সে এলাকার সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার ফেসবুক আইডিতে বিস্তারিত লিখে পোস্ট দিয়েছেন।পোস্টটি ভাইরাল হলে অভিযুক্ত ডাক্তার গৌরঙ্গকে গ্রেপ্তার পূর্বক আইনের আওতায় আনার জোর দাবি করছে ফেসবুক ইউজারেরা।

পার্শ্ববর্তী জুমছরি গ্রামের এক সিএনজি চালকের স্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,পেট ব্যথা নিয়ে ডাক্তার গৌরঙ্গের ফার্মেসিতে গেলে আমাকে সে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল বা কোন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে না পাঠিয়ে নিজেই চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। টানা ৬ মাস চিকিৎসার নামে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এতে আমার অবস্থার অবনতি হলে আত্মীয়-স্বজন আমাকে ককসবাজার নিয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করে চিকিৎসা করিয়েছে।

পিএমখালীর পরনিয়াপাড়ার আব্দুর রশিদ নামে এক ব্যক্তি জানান, যে কোন ওষুধের পরিমাণ মতো ডোজ অনুযায়ী ওষুধ না খেলে বা ব্যবহার না জানলে ওই ঔষুধ কোন কাজ করে না। অথচ এসব বিষয়ে গ্রামের কথিত পল্লী চিকিৎসকদের ন্যূনতম জ্ঞান নেই। গ্রামে ফার্মেসী নিয়ে যে পল্লী চিকিৎসক বসে আছে তাদের কাছে কোন রোগী গেলেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মতো আন্দাজ নির্ভর তাদের নিজস্ব প্রেসক্রিপশনে ঔষধ লিখে দিয়ে চিকিৎসা করছে।অথচ সাধারণ মানুষ বুঝেনা অনুমান নির্ভর ঔষধ সেবনে তাদের উপকারের চাইতে অপকার বেশি হচ্ছে। এমনকি অকালে অঙ্গহানি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯%।তাই পরিবারের কারো অসুখ হলে কিছু টাকা বেশি খরচ হলেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

অভিযুক্ত ডা: গৌরঙ্গ কুমার শর্মা’র সাথে তার মুঠোফোনে জানতে চাইলে আপনাদের ইচ্ছেমতো করেন, লিখেন বলে মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন।

এ ব্যাপারে অবহিত করা হলে কক্সবাজার সদর নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া আক্তার সুইটি বলেন, সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here