শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর - ২০২১
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১
আরও

    আজ বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস!

    মাসুদা আকতার, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
    আজ ১২ জুন, শুক্রবার বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। প্রতি বছর ১২জুন বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হয় বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। এই দিবসটি উপলক্ষে সরকারি বেসরকারিভাবে আয়োজনের কর্মসূচি থাকে।

    আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং ইউনিসেফসহ বেশকিছু বেসরকারি সংস্থা যৌথভাবে দিবসটি উদযাপন করছে। বাংলাদেশও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করছে। বাংলাদেশ দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘মুজিববর্ষের আহ্বান, শিশুশ্রমের অবসান’।

    দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়।

    বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জাতিসংঘ ২০২১ সালকে ‘আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম নিরসন বছর’ হিসেবে ঘোষণা করায় এ বছরের ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’ উদযাপন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

    আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকার বাসাবাড়িতে প্রায় দেড় লাখ শিশু কাজ করে। এই শিশুরা সাধারণত গ্রাম থেকে আসে। শহরে গৃহকর্মে নিয়োজিত হওয়ায় তাদের নেই দুরন্ত শৈশব। পড়াশোনা দূরের কথা, অসুস্থ হলে চিকিৎসাও হয় না। সংস্থাটির হিসাবে বিশ্বে প্রায় ১৬ কোটি ৮০ লাখ শিশু নানাভাবে শ্রম দিচ্ছে। এদের মধ্যে প্রায় সাড়ে আট কোটি শিশু নানা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত।

    ২০০০ সাল থেকে ৯৪ মিলিয়ন শিশুশ্রম কমেছে, কিন্তু কোভিড-১৯ সংকটের কারণে এখন এ অগ্রগতি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

    শুক্রবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অবস্থায় শিশুদের আরও দীর্ঘ সময় বা খারাপ অবস্থার মধ্যে কাজ করতে হতে পারে। তাদের মধ্যে অনেককে কাজের জন্য বাধ্য করা হতে পারে, যা তাদের স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

    আইএলওর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পোটিআইনেন বলেন, ‘বর্তমান সংকট মোকাবিলার আগ পর্যন্ত শিশুশ্রম হ্রাসে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছিল।’

    পোটিআইনেন বলেন, চলমান মহামারির প্রভাবে শিশুশ্রমের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিগুলোতে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সে দিকে লক্ষ্য রেখে এখন আগের চেয়ে আরও বেশি সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে।

    ‘এ সময়োপযোগী প্রতিবেদনটি কোভিড-১৯ এর ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরেছে এবং আইএলও, সরকার, কর্মকর্তা, শ্রমিক সংগঠন ও অন্য অংশীজনরা বর্তমান সংকটে কীভাবে সর্বোত্তম সাড়া দিতে পারে তার উপায় জানিয়ে দিচ্ছে,’ বলেন তিনি।

    বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোজুমি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জীবন, প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

    তোমো হোজুমি বলেন, ‘স্কুল বন্ধ এবং পারিবারিক উপার্জন হ্রাস অনেক শিশুকে শিশুশ্রম এবং বাণিজ্যিক যৌন নির্যাতনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দেবে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু দীর্ঘসময় স্কুলের বাইরে থাকে, পরে তাদের স্কুলে ফিরে আসার সম্ভাবনা কম থাকে। আমাদের এখন মহামারির সময়কালে শিক্ষা এবং শিশুদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া দরকার।’

    9,705FansLike
    36FollowersFollow