আজ আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রভাষা দিবস

মাসুদা আকতার তিশা, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
আজ ১১ মার্চ। পৃথিবীর ইতিহাসে আজকের দিনটি একটি স্মরণীয় দিন। আজকের এই বিশেষ দিন ভাষা আন্দোলন তথা এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে( ১১ মার্চ) একটি গৌরবোজ্জ্বল দিন। ইতিহাসে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” দাবিতে পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট পালন করা হয়।

১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজিকে সরকারি ভাষা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। … ১৯৪৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত ১১ মার্চ তারিখটি রাষ্ট্রভাষা দিবসরূপে পালিত হয়।

তৎকালীন সরকার ১৫ মার্চ রাষ্ট্রভাষা চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।পরে এই সংগ্রামের পরিপূর্ণতা লাভ করে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে। তবে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চের সিঁড়ি বেয়েই ৫২ ‘র ভাষা আন্দোলন, ৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলন বিকাশ লাভ করে।যার চূড়ান্ত পরিণতি ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়,আজকের এই স্বাধীন -সার্বভৌম রাষ্ট্র আমাদের প্রিয় জন্মভুমি “বাংলাদেশ”।

 

১১ মার্চ তারিখটি ছিলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রেপ্তার ও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক টার্নিং পয়েন্ট। স্বাধীন পাকিস্তানের রাজনীতিতে এটি ছিলো বঙ্গবন্ধুর প্রথম গ্রেপ্তার।সেদিন ( ১১মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা শহরের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণ ধর্মঘট পালন করা হয়। ১১ মার্চের ধর্মঘট শুধু ঢাকা শহরে সীমাবদ্ধ ছিল না, পূর্ব বাংলার সর্বত্রই রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে সেদিন ছাত্রসমাজ ও সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করে।

 

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ একটি মায়ের বুক খালি না করেও এই আন্দোলনে যে গণবিস্ফোরণ সৃষ্টি হয়, তাতে সরকার ভাষা সম্পর্কিত সব দাবি-দাওয়া মেনে নিতে এবং সে মর্মে চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার নানা টালবাহানা করে । পরে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১১ মার্চের হরতালে তৎকালীন সরকার প্রথমবারের মতো আন্দোলনকারীদের কাছে নতি স্বীকার করে। ভাষা আন্দোলন তথা আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ১১ মার্চ অবিস্মরণীয় সংগ্রামমুখর একটি দিন। এ আন্দোলনে মাতৃভাষাপ্রেমী অকুতোভয় সৈনিকের অমানবিক নির্যাতন ও অত্যাচার সহ্য করেছিলেন। ১১ মার্চের পথ ধরেই পরবর্তীকালে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিকশিত হয়। পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল প্রেরণা ছিল ঐতিহাসিক ১১ মার্চ।

আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মাণে ১১ মার্চের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু বলতে হয় এটা খুব দুঃখজনক সত্য যে, আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ঐতিহাসিক ১১ মার্চের গুরুত্বটি আজ উপেক্ষিত। জাতীর স্বার্থে এবং আমাদের আগামী ভবিষ্যত প্রজন্ম,তরুণ এবং বর্তমান সমাজকে সঠিক তথ্য জানাতে, বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস প্রণয়নের স্বার্থে ঐতিহাসিক ১১ মার্চের কথা আমাদের স্মরণ করা উচিত।
এতে করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং বর্তমান তরুণ সমাজ আমাদের এই স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here